Logo
প্রিন্টের তারিখ: 01 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: Oct 1, 2026

সংবাদ শিরোনাম : শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে না দিলে ভারত সফর নয়: ঢাকার কঠোর বার্তা

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে না দিলে ভারত সফর নয়: ঢাকার কঠোর বার্তা


নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে কূটনৈতিক আলোচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে অগ্রগতি না হলে ভারত সফরের পরিবেশ তৈরি হবে না—এমন অবস্থানের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

রোববার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এ সফরের জন্য একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি করা প্রয়োজন বলে বাংলাদেশ মনে করছে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকার অবস্থান

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে তারা এখনো ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধ তাদের আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর শেখ হাসিনা ভারত চলে যান। এরপর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের নানা বিষয়ে টানাপোড়েন তৈরি হয়। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি সেই সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্ভাব্য ভারত সফর ঘিরে অনিশ্চয়তা

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সফরের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়। তবে রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, সফরের জন্য উপযুক্ত কূটনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক প্রকাশ্য বক্তব্যসহ কিছু ঘটনায় সফরকে ঘিরে চলমান প্রক্রিয়া প্রভাবিত হয়েছে। বাংলাদেশ মনে করে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও আস্থার পরিবেশ থাকা জরুরি।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন বার্তা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর আগেও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে বর্তমান সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা জানিয়েছে।

ফলে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর এখন শুধু একটি কূটনৈতিক সফর নয়; এর সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও জড়িয়ে গেছে।

এদিকে ভারত থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর শেষ পর্যন্ত কবে এবং কোন পরিস্থিতিতে হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।
দৈনিক জাগ্রত সময়
Developed by ZapStudio Network
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF