নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অটো রিকশা ও ইজিবাইক গ্যারেজে ঢুকে ম্যানেজারসহ কয়েকজনকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে জিম্মি করে প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের ব্যাটারি ও মালামাল লুটের ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য ও কথিত ডাকাত সর্দার মো. হৃদয়কে (২৯) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১।
র্যাবের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত হৃদয়ের বিরুদ্ধে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ৯টি ডাকাতি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সে বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সন্ত্রাস, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র, মাদক, অপহরণ, প্রতারণা ও হত্যাসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের বন্দরের চাঞ্চল্যকর এ ডাকাতির ঘটনায়ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে র্যাব-১১।
গভীর রাতে গ্যারেজে হানা
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন আন্দিরপাড় এলাকায় সাহেরা গার্ডেন সংলগ্ন স্থানে নিলুফা আক্তারের মালিকানাধীন ‘মরিয়ম অটো-সিএনজি’ নামে একটি অটো রিকশা গ্যারেজ রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন মালিক দৈনিক ভাড়া চুক্তিতে তাদের অটো রিকশা, মিশুক ও ইজিবাইক রেখে চার্জ দিয়ে থাকেন।
গত ১ জুলাই ২০২৬ রাতে প্রতিদিনের মতো গ্যারেজে মোট ৩২টি অটো রিকশা, মিশুক ও ইজিবাইক চার্জে রাখা ছিল।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ভোর আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে মো. হৃদয়সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ৯ জনের একটি ডাকাত দল গ্যারেজের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
ডাকাতরা দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে গ্যারেজের ম্যানেজার মো. ফয়সাল এবং সেখানে থাকা অটো রিকশার মালিক সাইদুল, রুবেল ও আব্দুল হককে জিম্মি করে। পরে রশি ও কাপড় দিয়ে তাদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে মাটিতে ফেলে রাখে।
নগদ টাকা ও ১০৬টি ব্যাটারি লুট
জিম্মিদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর ডাকাতরা গ্যারেজের ক্যাশে থাকা ২২ হাজার টাকা নগদ নিয়ে যায়। এরপর গ্যারেজে রাখা অটো রিকশা, মিশুক ও ইজিবাইকের প্রায় ১০৬টি ব্যাটারিসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, লুট হওয়া মালামালের মোট মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে বন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। মামলা হওয়ার পর থেকেই জড়িত ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে র্যাব-১১।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ফতুল্লায় অভিযান
র্যাব-১১ জানিয়েছে, মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে আসামিদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১১ সদর কোম্পানি, নারায়ণগঞ্জ এবং র্যাব-৩, ঢাকার একটি যৌথ আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে।
২৩ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক ২টা ৫ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন ভূঁইঘর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি **মো. হৃদয় (২৯)**কে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত হৃদয় বরিশাল জেলার মুলাদী থানার আলিমাবাদ এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম আব্দুর রব হাওলাদার এবং মায়ের নাম মোকসেদা বেগম।
বিভিন্ন থানায় ৯টি ডাকাতি মামলা
র্যাব-১১-এর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত হৃদয়ের বিরুদ্ধে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ৯টি ডাকাতি মামলা রয়েছে।
এ কারণে তাকে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছে র্যাব। চক্রটির সঙ্গে আরও কারা জড়িত এবং বন্দরের গ্যারেজে ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া বিপুলসংখ্যক ব্যাটারি কোথায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।
আইনগত ব্যবস্থা
গ্রেপ্তারকৃত মো. হৃদয়কে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।