সাবহেড: নিজের অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব শেখ ফজলুল করিম সেলিম পালন করবেন বলে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। একই সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার পরিকল্পনা, নিরাপত্তা, শেখ রেহানার রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেছেন তিনি।
ঢাকা: নিজের অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব শেখ ফজলুল করিম সেলিম পালন করবেন বলে জানিয়েছেন দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা। তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হবেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল-এর নির্বাহী সম্পাদক অমল সরকারকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা। গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, দেশে ফেরার পরিকল্পনা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা জানান, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। তাঁর অনুপস্থিতিতে দলের সভাপতির দায়িত্ব শেখ সেলিম পালন করবেন। একই সঙ্গে শেখ রেহানা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক নেতৃত্ব কে পরিচালনা করবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ছিল। তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে শেখ সেলিমের নাম সামনে এসেছে।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বর দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে দেশে ফিরলে বিমানবন্দরে তাঁকে হত্যা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। দেশে ফেরার উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত অন্য ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগের কথা জানান সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, দেশে জঙ্গিবাদী শক্তির উত্থান ঘটছে এবং এর প্রভাব বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
এ ধরনের পরিস্থিতির প্রভাব প্রতিবেশী ভারতেও পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশকে ধ্বংস হয়ে যেতে দেখলে তাঁর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়।
সাক্ষাৎকারে তারেক রহমানের ভারত সফর এবং তাঁর বাংলাদেশে ফিরে আসার প্রসঙ্গও উঠে আসে। বাংলাদেশের নির্বাচন ও তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে ভারতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা।
একই সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে পারস্পরিক স্বার্থ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং তাঁর দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি হয়েছে।