লামা প্রতিনিধি:
বান্দরবানের লামা উপজেলার ৫ নম্বর সরই ইউনিয়নের ৩০৩ নম্বর ডলুছড়ি মৌজায় জমি-জমা সংক্রান্ত অনিয়ম, প্রতারণা, অর্থ লেনদেন ও দলিল জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে হাজিরাম ত্রিপুরা (৫৫)-এর বিরুদ্ধে। তিনি নিজেকে হেডম্যান হিসেবে পরিচয় দিয়ে স্থানীয়দের জমি কেনাবেচা ও বিভিন্ন ভূমি-সংক্রান্ত কাজে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাজিরাম ত্রিপুরা জমি-জমা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে মধ্যস্থতা করে আসছেন। খতিয়ান, নামজারি, দলিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র করে দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেওয়া এবং জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সরই ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লাংকম কারবারি পাড়া, কামরিং ম্রো পাড়া, রেংইন কারবারি পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা এসব অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মেরিডিয়ান কোম্পানি ও লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজের কাছে স্থানীয়দের জমি বিক্রির ক্ষেত্রেও হাজিরাম ত্রিপুরা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা ও মধ্যস্থতা করেছেন। এ ক্ষেত্রে জমির মালিকানা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের যথাযথতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
সাবেক হেডম্যানের অভিযোগ
৩০৩ নম্বর ডলুছড়ি মৌজার সাবেক হেডম্যান যোহন ত্রিপুরা বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হাজিরাম ত্রিপুরা হেডম্যানের দায়িত্ব নিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার দাবি, তিনি দায়িত্বে থাকাকালে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সুযোগ ছিল না।
যোহন ত্রিপুরা আরও বলেন, “মৌজাবাসীর পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ
জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে নেটনং ম্রো (৩৯), রিংরং ম্রো (৪৫) ও খামারেং ম্রো (৫৫)-এর নাম ভুক্তভোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, জমির কাগজপত্র ও মালিকানা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্টতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট দলিল, খতিয়ান, নামজারি ও অন্যান্য ভূমি-সংক্রান্ত নথিপত্র পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গণস্বাক্ষর সংগ্রহের অভিযোগ
এদিকে গত ৮ সেপ্টেম্বর হাজিরাম ত্রিপুরার বিরুদ্ধে সরই ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া থেকে গণস্বাক্ষর সংগ্রহের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, টংগ্যাঝিরি পাড়া, সবুজায়ন পাড়া ও কম্পানিয়া পাড়াসহ কয়েকটি এলাকা থেকে মানুষের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
তবে এসব স্বাক্ষর কী উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে, কতজনের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কোথায় তা ব্যবহার করা হবে—এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওঠা এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট জমির দলিল, খতিয়ান, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করের নথি এবং জমি কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেন যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে হাজিরাম ত্রিপুরার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
প্রতিবেদকের নোট: প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো স্থানীয় অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা জরুরি।