Logo
প্রিন্টের তারিখ: 03 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: Oct 3, 2026

সংবাদ শিরোনাম : ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, ধরা-বেচা-পরিবহন সবই বন্ধ

ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, ধরা-বেচা-পরিবহন সবই বন্ধ


নিজস্ব প্রতিবেদক
দৈনিক জাগ্রত সময়

মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। ২২ দিনের এই সময়ে ইলিশ মাছ ধরা ছাড়াও পরিবহণ, মজুদ, বাজারজাত, কেনাবেচা ও বিনিময়ের ওপরও নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, নিষেধাজ্ঞার পুরো সময়জুড়ে মা ইলিশ রক্ষায় দেশব্যাপী অভিযান পরিচালনা করা হবে। মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের জন্য ভিজিএফের আওতায় খাদ্য সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে।

সভায় মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ইলিশের ভবিষ্যৎ উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে থাকবে সরকার। বরিশাল, ভোলা, চাঁদপুরসহ ইলিশের প্রধান প্রজনন অঞ্চলগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে জেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত নৌযান ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে বলেও সভায় জানানো হয়।

শুধু নদী ও সাগরে অভিযান নয়, অবৈধভাবে ধরা ইলিশ যেন বাজারে বিক্রি হতে না পারে, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে। এ জন্য বরফকল, মাছের আড়ত ও বাজারগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইলিশের প্রজননক্ষেত্রগুলোতে অবৈধ জাল অপসারণে অভিযান জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা বা ইলিশ বাজারজাত করার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করলে ইলিশের উৎপাদন পুনরায় বাড়ানো সম্ভব হবে।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে গবেষণা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। কোথায় ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি রয়েছে, তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

নিষিদ্ধ জালের উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধের পাশাপাশি জেলেদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। নিষেধাজ্ঞার সময় প্রকৃত জেলেদের সরকারি সহায়তা যথাযথভাবে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়ানোর কথাও তিনি জানান।

ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে বিদেশ থেকে মাছ আমদানির প্রয়োজনীয়তা তৈরি হওয়াকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইলিশকে জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য হিসেবে সংরক্ষণ এবং উৎপাদন বাড়াতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. মীর হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. খালেদ কনক এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. লতিফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্র: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

দৈনিক জাগ্রত সময়
Developed by ZapStudio Network
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF