Logo
প্রিন্টের তারিখ: 30 September 2026 | প্রকাশের তারিখ: Sep 30, 2026

সংবাদ শিরোনাম : ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছেই: ২৪ ঘণ্টায় ৭ মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৫৯৩

ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছেই: ২৪ ঘণ্টায় ৭ মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৫৯৩


নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক জাগ্রত সময়

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। দেশে গত এক দিনে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন। চলতি সেপ্টেম্বরেই ডেঙ্গুতে ৬৭ জনের মৃত্যু হওয়ায় চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু পরিস্থিতির সর্বশেষ বুলেটিনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৭১ জন এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ১৩২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। রাজধানীর দুই সিটি এলাকার বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৩৮৩ জন।

দেশের অন্যান্য বিভাগেও ডেঙ্গু রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে খুলনায় সর্বোচ্চ ২৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চট্টগ্রামে ১৬৫, বরিশালে ১৫৯, রাজশাহীতে ১৩৭, ময়মনসিংহে ৮২, রংপুরে ৬৫ এবং সিলেটে ৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

তবে একই সময়ে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৫৬৬ জন। ফলে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরে আক্রান্ত ৫৫ হাজারের বেশি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৫৫ হাজার ১৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৫০ হাজার ৯৪১ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

চলতি বছরে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বর মাসের প্রথমার্ধেই মারা গেছেন ৬৭ জন। মাসের হিসাবে চলতি বছরের অন্য যেকোনো মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বরে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি।

আগের ভয়াবহ বছরগুলোর চিত্র

দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুর হিসাব ২০০০ সাল থেকে সংরক্ষণ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নেয়। ওই বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জনে পৌঁছায়। একই বছরে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়।

এর পরের বছরও ডেঙ্গুতে প্রাণ হারান চার শতাধিক মানুষ। ২০২৪ সালে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ২ হাজার।

চলতি বছর সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যুর হার বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু বিষয়ক দৈনিক বুলেটিন

দৈনিক জাগ্রত সময়
Developed by ZapStudio Network
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF