বিশেষ প্রতিবেদক, দৈনিক জাগ্রত সময়
সুন্দরবনের পূর্বাঞ্চলে আবারও বনদস্যুদের তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে। সাগরসংলগ্ন ভাঙ্গা, আমবাড়ীয়া ও নারিকেলবাড়ীয়া এলাকায় জেলেদের বহরে হামলা চালিয়ে একটি ট্রলারসহ ১৫ জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিনগত গভীর রাতে পৃথক স্থানে এসব ঘটনা ঘটে। এর আগে শুক্রবারও জেলে অপহরণের ঘটনা ঘটে। ফলে দুই দিনে সুন্দরবন থেকে ২১ জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম।
বন বিভাগ জানায়, অপহৃত জেলেরা বন বিভাগের অনুমোদিত পাস নিয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে মাছ ধরছিলেন। তারা চরপাটা, পোকা জাল ও বড়শি ব্যবহার করছিলেন। শনিবার গভীর রাতে সাগরঘেঁষা এলাকায় জেলেদের বহরে হানা দেয় বনদস্যুরা। একপর্যায়ে বিভিন্ন নৌযান থেকে একজন করে জেলেকে জোরপূর্বক তুলে একটি ট্রলারে নেওয়া হয়।
অপহৃত ১৫ জেলের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে খুলনার আরিফ, সগীর, মিঠু ও ফেরদাউস রয়েছেন। এছাড়া বরগুনার পাথরঘাটা ও তালতলী এলাকার ইব্রাহিম, ইমরান, মোস্তাফিজুর, আলামিন, হানিফ ও মারুফের নাম জানা গেছে।
দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় বলেন, বন বিভাগের পাস নিয়ে জেলেরা মাছ ধরছিলেন। গভীর রাতে তাদের বহরে হামলা চালিয়ে বনদস্যুরা বিভিন্ন নৌকা থেকে জেলেদের তুলে নিয়ে যায়।
শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা এসিএফ মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার ও শনিবার দুই দিনে ২১ জেলেকে অপহরণের তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও কোস্টগার্ডকে অবহিত করা হয়েছে। বনদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।
সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ডশাহজামাল টাওয়ার, আদর্শবাগ, যাত্রাবাড়ি, ঢাকা ১৩৬২।