রিপোর্টার: শাফায়েত হোসেন
বিদেশে পাঠানোর কথা বলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকায় মো. সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাকিম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অর্থ নেওয়ার পর বিদেশে পাঠানো হয়নি এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টাকা ফেরতও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সিরাজুল।
ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ সদর এলাকার বাসিন্দা। তার দাবি, একই এলাকার বাসিন্দা হাকিমের সঙ্গে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে তার যোগাযোগ হয়। হাকিম তাকে জানান, তার বোনজামাই বিদেশে থাকেন এবং বিভিন্ন দেশের ভিসার ব্যবস্থা করার সুযোগ রয়েছে।
এই আশ্বাসে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নেন সিরাজুল। নিজের জমি ও অন্যান্য উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি সুদের ওপর টাকা নিয়ে তিনি হাকিমকে মোট ৫ লাখ টাকা দেন বলে জানান।
সিরাজুলের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর হাকিম বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের আশ্বাস দিতে থাকেন। সময় গড়াতে থাকলেও বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়া এগোয়নি। পরে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলা হলেও সেই অর্থ এখনো ফেরত পাওয়া যায়নি বলে দাবি তার।
ভুক্তভোগীর দাবি, শুধু তার কাছ থেকেই নয়, মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং ও আশপাশের এলাকায় আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও বিদেশে পাঠানোর কথা বলে অর্থ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের ধারণা, মোট অর্থের পরিমাণ ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা হতে পারে। তবে এ দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সিরাজুল বলেন, বিদেশে গিয়ে পরিবারের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে তিনি টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু বিদেশে যাওয়া হয়নি। বর্তমানে ঋণ ও সুদের চাপ সামলাতে গিয়ে তার পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে।
এ বিষয়ে সিরাজুল ইসলাম ও তার মা হাওয়া বিবি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, টাকা লেনদেনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে হাকিমের বক্তব্য জানতে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি এবং ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্ত, অর্থ লেনদেনের বিষয়টি যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
দ্বিতীয় পর্বে থাকছে—অভিযোগের নেপথ্যে আরও তথ্য, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ডশাহজামাল টাওয়ার, আদর্শবাগ, যাত্রাবাড়ি, ঢাকা ১৩৬২।