ঢাকা / কুয়ালালামপুর: থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতার মধ্যে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনাল (বিআরএন)। অঞ্চলটিতে একটি স্বাধীন ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করে সংগঠনটি জানিয়েছে, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সশস্ত্র সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক বিরল সাক্ষাৎকারে এই অবস্থানের কথা জানান বিআরএনের শান্তি আলোচনা প্রতিনিধি দলের মুখপাত্র নিকমাতুল্লাহ সেরি। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনে “শেষ সময় পর্যন্ত” থাই সরকারের বিরুদ্ধে এই সংগ্রাম চালিয়ে যাবে তাঁর সংগঠন।
নিকমাতুল্লাহ সেরি জানান, বিআরএন কেবল শান্তি আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না, বরং দক্ষিণাঞ্চলে নিজেদের রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী। সংগঠনটির পক্ষ থেকে থাই সরকারের কাছে একটি ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো নির্বাচনের মাধ্যমে নয়, বরং বিআরএন সরাসরি এই অঞ্চলের শাসনভার পরিচালনা করতে চায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংঘাতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও প্রাণহানি
ঐতিহাসিকভাবে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকাটি মালয়-মুসলিম অধ্যুষিত ‘পাতানি সালতানাত’-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯০০-এর দশকের শুরুর দিকে তৎকালীন সিয়ামের (বর্তমান থাইল্যান্ড) সাথে অঞ্চলটি যুক্ত করা হয়। এর পর থেকেই ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক অধিকার সুরক্ষায় স্থানীয় মালয়-মুসলিম জনগোষ্ঠীর একটি অংশ থাই শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় এবং স্বায়ত্তশাসনের দাবি তুলতে থাকে।
দীর্ঘদিনের চাপা অসন্তোষ ২০০৪ সালে এক রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেয়। যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘ডিপ সাউথ ওয়াচ’-এর পরিসংখ্যান উল্লেখ করে এএফপি জানায়, গত দুই দশকে এই অঞ্চলে চলা সংঘাতে ৭ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় থাই সরকারের সাথে শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টা চলমান থাকলেও বিআরএনের সাম্প্রতিক এই কঠোর বার্তা দক্ষিণাঞ্চলের পরিস্থিতিকে নতুন করে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ডশাহজামাল টাওয়ার, আদর্শবাগ, যাত্রাবাড়ি, ঢাকা ১৩৬২।