বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন মোহাম্মদপুর প্রতিনিধি :
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠিত বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে চুরি, শ্রমিক নেতার ওপর হামলা এবং কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পদ-পদবির অপব্যবহার এবং স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী মহলের মধ্যকার যোগসাজশের অভিযোগ ঘিরে পুরো এলাকায় এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে চুরি ও নিরাপত্তা সংকট
সম্প্রতি মোহাম্মদপুরের সেন্ট পল স্কুল অ্যান্ড চার্চে সংঘটিত চুরির ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির একটি বড় উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। গির্জার দোতলা থেকে প্রায় ৭০ কেজি ওজনের ঐতিহাসিক পিতলের ঘণ্টা চুরির সময় সিসিটিভি ক্যামেরা সপরিকল্পিতভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় জাকির হোসেন রোডের একটি ডাস্টবিন থেকে ঘণ্টাটি উদ্ধার করা হলেও, এই ঘটনার সাথে জড়িত মূল চক্রটি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
রাজনৈতিক পদকে ‘রক্ষাকবচ’ হিসেবে ব্যবহার
অনুসন্ধানে জানা যায়, মোহাম্মদপুরের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় দলের নাম ও পদ-পদবি ব্যবহার করে একশ্রেণির ব্যক্তি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা, চাঁদাবাজি এবং কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ উঠেছে কতিপয় কথিত নেতার বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এসব ব্যক্তি নিজেদের অপরাধমূলক কার্যক্রমকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংবাদ প্রকাশের জেরে থানায় জিডি ও আইনি ভীতি প্রদর্শন।
মোহাম্মদপুরের সাম্প্রতিক অরাজকতা ও অপরাধের চিত্র গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর নতুন এক কৌশল লক্ষ্য করা গেছে। সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করতে এবং সাংবাদিকদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতে বিভিন্ন প্রতিবেদনের লিংক বা ইউআরএল সংযুক্ত করে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে স্থানীয় কিছু বিতর্কিত ব্যক্তির সখ্যতার কারণে থানা প্রশাসনকে ব্যবহার করে এসব জিডি করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিপরীতে এই ধরনের আইনি পদক্ষেপের অপপ্রয়োগ নিয়ে গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
নেপথ্যের কুশীলব ও ত্রিভুজ অক্ষ
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মোহাম্মদপুরের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির নেপথ্যে তিনটি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে:
ছদ্মবেশী রাজনৈতিক ক্যাডার: যারা দলের পরিচয় ব্যবহার করে স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার ও অপরাধ পরিচালনা করে।
অপরাধী চক্র ও কিশোর গ্যাং: যারা মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির সাথে সরাসরি যুক্ত।
প্রশাসনিক যোগসাজশ: প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার নিষ্ক্রিয়তা বা সহযোগিতার ফলে অপরাধীরা আইনি ব্যবস্থার বাইরে থেকে যায়।
উপসংহার
মোহাম্মদপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উভয় পর্যায়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। স্থানীয় সচেতন মহল এবং গণমাধ্যমকর্মীরা এই পুরো সিন্ডিকেটের কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রিন্ট করুন
ফটো কার্ড
এ জাতীয় আরো খবর..