নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেমরা
রাজধানীর ডেমরার বাঁশেরপুল এলাকায় রাজউকের অনুমোদন ছাড়া বা অনুমোদিত নকশার বাইরে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। একই ভবনের নিচতলায় আবাসিক ব্যবহারের পরিবর্তে বাণিজ্যিক দোকান পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় রাজউকে লিখিত অভিযোগ করার তিন মাস পরও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডেমরা থানাধীন পাড়াদোগার নতুনপাড়া/জ্ঞান নগর এলাকার ৪২৪/৬ নম্বর হোল্ডিংয়ে মো. জাকির হোসেনের মালিকানাধীন একটি সাড়ে ছয়তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ভবনটির নির্মাণ রাজউকের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ভবনটির নিচতলায় আবাসিক ভবনের অনুমোদিত ব্যবহারের বাইরে দোকান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবন নির্মাণের অনুমোদনসংক্রান্ত নকশা ও কাগজপত্র স্থানীয়দের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভবনটির অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে মালিক তৎকালীন রাজউক চেয়ারম্যানের মৌখিক অনুমতির কথা বলেছেন বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তবে মৌখিক অনুমতির বিষয়টি কোনো লিখিত নথি দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভবনটির নির্মাণের বৈধতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে রাজউক চেয়ারম্যান বরাবর গত ৬ জুলাই ২০২৬ লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযোগটির রিসিভ/স্মারক নম্বর ৬.৮৮৬। এতে ভবনটি সরেজমিন পরিদর্শন, অনুমোদনবহির্ভূত অংশ শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ইউটিলিটি সংযোগের বিষয়টি বিবেচনার আবেদন জানানো হয়।
কিন্তু অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রায় তিন মাসেও রাজউকের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে ভবনটির নিরাপত্তা ও নির্মাণের বৈধতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
অন্যদিকে অভিযোগ করার পর থেকে ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আলমগীর নামে এক ব্যক্তি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিয়েছেন। পরে বাঁশেরপুল এলাকার এক ফার্মেসি ব্যবসায়ী, যিনি ‘রবিন ডাক্তার’ নামে পরিচিত বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, তিনিও অভিযোগ প্রত্যাহার এবং ভবনটির বিষয়ে ভবিষ্যতে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চাপ ও হুমকি দিয়েছেন।
তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য ও হুমকির অভিযোগের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, ভবনটির অনুমোদন ও নির্মাণসংক্রান্ত সব নথি যাচাই করে রাজউকের পক্ষ থেকে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানানো হোক। একই সঙ্গে অভিযোগকারীকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে রাজউক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ডশাহজামাল টাওয়ার, আদর্শবাগ, যাত্রাবাড়ি, ঢাকা ১৩৬২।