দৈনিক জাগ্রত সময় | বিশেষ অনুসন্ধান
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে ভেকু নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে পরিকল্পিত হামলার নানা প্রশ্ন। একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শতাধিক মানুষের প্রবেশ, নিরাপত্তাকর্মীদের বেঁধে রাখা, ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং চিকিৎসাসামগ্রী লুটের ঘটনায় হামলাটি কীভাবে সংঘটিত হলো—তা এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে একদল ব্যক্তি হ্যামার, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সীমানার ভেতরে প্রবেশ করেন। দুই নৈশপ্রহরীকে মারধর করে বেঁধে রাখার পর প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু ভেতরে নেওয়া হয়।
এরপর একের পর এক স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়। পরিবার পরিকল্পনা সেবা, ক্লিনিক, চিকিৎসক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভবন এবং রেজিস্ট্রেশন শাখাতেও তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে, রাতের বেলায় একটি ভারী ভেকু কীভাবে সেখানে পৌঁছাল? কে বা কারা এটি সরবরাহ করেছিল? হামলাকারীরা আগে থেকেই স্থাপনার কোন কোন অংশে ভাঙচুর চালাতে হবে, তা জানত কি না—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার সময় হামলাকারীরা ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানার ব্যবহার করেছিলেন। এই সংগঠনের সঙ্গে হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্ক কী, সেটিও তদন্তের বিষয়।
ইতোমধ্যে মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজনকে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন। সর্বশেষ ছয় আসামিকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে আরও চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলার তদন্তের মধ্য দিয়ে হামলার পরিকল্পনা, অর্থায়ন, নির্দেশদাতা এবং অংশগ্রহণকারীদের ভূমিকা স্পষ্ট হওয়ার কথা।
অনুসন্ধানের প্রশ্ন:
এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই হয়তো মধ্যরাতের এই তাণ্ডবের নেপথ্য চিত্র পরিষ্কার করতে পারে।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ডশাহজামাল টাওয়ার, আদর্শবাগ, যাত্রাবাড়ি, ঢাকা ১৩৬২।