নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক জাগ্রত সময়
দেশের বেসরকারি ব্যাংক খাতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মেঘনা ব্যাংক ও মিডল্যান্ড ব্যাংক। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আসে। বর্তমানে ব্যাংক দুটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন একই পরিবারের দুই সদস্য—উজমা চৌধুরী ও আহসান খান চৌধুরী। তারা পরস্পর ভাই-বোন এবং দুজনই প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
ব্যাংকটির আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জুন শেষে উভয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে।
মেঘনা ব্যাংকের ক্ষেত্রে, ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন উজমা চৌধুরী। ওই সময় ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল প্রায় ২৫৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে প্রায় ৪৩৩ কোটি টাকা। মোট ঋণের তুলনায় এর হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ।
মেঘনা ব্যাংক ২০১৩ সালে কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্যোক্তাদের মধ্যে উজমা চৌধুরীও ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয় এবং নতুন বোর্ডে উজমা চৌধুরী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান।
মিডল্যান্ড ব্যাংকের চিত্রও অনেকটা একই। ২০২৫ সালের ২০ মার্চ পরিচালনা পর্ষদের ১৬৫তম সভায় আহসান খান চৌধুরীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। তিনি ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্যোক্তাদের একজন ছিলেন।
আহসান খান চৌধুরী চেয়ারম্যান হওয়ার আগে মিডল্যান্ড ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল প্রায় ২৩৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪১২ কোটি টাকা। এ সময় মোট ঋণের ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ খেলাপি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হয়েছে।
এর আগে মিডল্যান্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন নিলুফার জাফরউল্লাহ। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনুপস্থিত হতে থাকেন। পরবর্তীতে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তে আহসান খান চৌধুরী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন।
ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টদের একটি অংশের মতে, একই পরিবারের সদস্যদের একাধিক বাণিজ্যিক ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ে থাকা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে বিরল ঘটনা। তাদের মতে, ব্যাংকের মালিকানা, পরিচালনা কাঠামো ও ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে শুধু নতুন চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব গ্রহণকে সরাসরি দায়ী করার সুযোগ নেই। কারণ খেলাপি ঋণের বড় অংশ আগের সময়ে বিতরণ করা ঋণ থেকেও তৈরি হতে পারে। ঋণ আদায়, পুনঃতফসিল, শ্রেণিকরণ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও খেলাপি ঋণের ওপর প্রভাব ফেলে।
মেঘনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান উজমা চৌধুরীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে প্রতিবেদকের পরিচয় জানার পর তিনি ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। ব্যাংকটির এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মিজানুর রহমানের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়।
মিডল্যান্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী এবং এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমতিয়াজ ইউ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ব্যাংক দুটির খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণ, ঋণ আদায়ের বর্তমান পরিস্থিতি এবং নতুন পরিচালনা পর্ষদের অধীনে সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরও ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা যেতে পারে।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ডশাহজামাল টাওয়ার, আদর্শবাগ, যাত্রাবাড়ি, ঢাকা ১৩৬২।