বিশেষ প্রতিনিধি,
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ছোট ভাই জাকির হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাই মো. শাকিল (৩২) ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাকিয়ারচর পশ্চিমপাড়ার নবী মেম্বারের বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জাকির হোসেন ওই এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার দুপুরে ওই বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা রূপ নেয় সংঘর্ষে।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় বড় ভাই মো. শাকিল ও তার সহযোগীরা ছোট ভাই জাকির হোসেনকে মারধর করেন। একপর্যায়ে জাকির গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক জাকির হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
খবর পেয়ে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পরে হাসপাতাল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুরেজীত বড়ুয়া জানান, নিহত জাকির হোসেনের শরীরে আঘাতের একাধিক চিহ্ন দেখা গেছে। তবে ঠিক কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ঘটনাটি পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটেছে কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, তাদের ভূমিকাও তদন্ত করা হচ্ছে।
দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুরেজীত বড়ুয়া বলেন, “নিহতের শরীরে আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার নেপথ্যের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বড় ভাই মো. শাকিলের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—একটি পারিবারিক বিরোধ কীভাবে এমন মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনল। পুলিশ বলছে, তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।
প্রিন্ট করুন
ফটো কার্ড
এ জাতীয় আরো খবর..