কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ফেসবুক। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যেসব পেজ অ্যাডমিন, ভিডিও নির্মাতা, ইউটিউবার ও ভ্লগার ফেসবুকে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে আয় করেন, তাদের জন্য নতুন এই নীতিমালা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
ফেসবুক এখন অরিজিনাল বা মৌলিক কনটেন্টকে আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। শুধু নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করলেই হবে না; কনটেন্টে নির্মাতার নিজস্ব সৃজনশীলতা, শ্রম, বিশ্লেষণ ও দর্শকের জন্য নতুন মূল্য যোগ হয়েছে কি না—সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
অরিজিনাল কনটেন্টে বেশি গুরুত্ব
ফেসবুকের নীতিমালা অনুযায়ী, একজন নির্মাতা নিজে পরিকল্পনা করে, নিজে শুটিং করে, নিজের উপস্থাপনা ও প্রযোজনার মাধ্যমে যে কনটেন্ট তৈরি করেন, সেটিকে মৌলিক কনটেন্ট হিসেবে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অর্থাৎ, একজন ক্রিয়েটর নিজে ক্যামেরার সামনে থেকে কোনো ঘটনা, স্থান বা বিষয় তুলে ধরলে এবং তাতে নিজের চিন্তা ও সৃজনশীলতা যুক্ত করলে সেটি অরিজিনাল কনটেন্ট হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
অন্যের ভিডিও ব্যবহার করলেও থাকতে হবে নতুনত্ব
অন্যের তৈরি ভিডিও বা ক্লিপ ব্যবহার করলেই সেটি অরিজিনাল হয়ে যাবে—এমনটা নয়। অন্যের কনটেন্ট ব্যবহার করলে তার সঙ্গে নির্মাতার নিজস্ব বক্তব্য, বিশ্লেষণ, নতুন তথ্য, ব্যাখ্যা বা প্রেক্ষাপট যুক্ত থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণ হিসেবে, কোনো ভাইরাল ভিডিও নিয়ে একজন নির্মাতা ক্যামেরার সামনে এসে ঘটনাটি বিশ্লেষণ করলেন, নতুন তথ্য দিলেন বা বিষয়টির প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করলেন—তাহলে কনটেন্টে নতুন মূল্য যুক্ত হতে পারে।
তবে শুধু অন্যের ভিডিও চালিয়ে মাঝে মাঝে নিজের মুখ দেখানো যথেষ্ট নয়। দর্শকের জন্য বাস্তব ও উল্লেখযোগ্য নতুন তথ্য বা বিশ্লেষণ থাকতে হবে।
শুধু এডিট করলেই মৌলিক কনটেন্ট নয়
অনেক পেজ অ্যাডমিন অন্যের ভিডিও ডাউনলোড করে তাতে বর্ডার, ক্যাপশন, ওয়াটারমার্ক বা বিভিন্ন ধরনের এডিট করে আবার নিজেদের পেজে প্রকাশ করেন।
ফেসবুকের নীতিমালা অনুযায়ী, এ ধরনের সামান্য কারিগরি পরিবর্তন সাধারণত কনটেন্টকে মৌলিক করে তোলে না। মূল ভিডিওতে উল্লেখযোগ্য সৃজনশীল সংযোজন না থাকলে শুধু স্পিড পরিবর্তন, ক্রপ, বর্ডার বা ক্যাপশন যোগ করাকে অরিজিনাল কনটেন্ট হিসেবে গণ্য করা নাও হতে পারে।
রিঅ্যাকশন ভিডিওতেও সতর্কতা
বাংলাদেশে রিঅ্যাকশন ভিডিও বেশ জনপ্রিয়। তবে শুধু অন্যের ভিডিও দেখে চুপচাপ তাকিয়ে থাকা বা সামান্য মুখভঙ্গি করাকে যথেষ্ট অরিজিনাল কনটেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা নাও হতে পারে।
রিঅ্যাকশন ভিডিওতে নির্মাতার নিজস্ব বক্তব্য, বিশ্লেষণ বা তথ্য থাকা জরুরি। কোনো ঘটনা কেন গুরুত্বপূর্ণ, এর প্রভাব কী এবং বিষয়টি নিয়ে নতুন কী তথ্য বা দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে—এসব তুলে ধরলে কনটেন্টে আলাদা মূল্য যোগ হতে পারে।
কেন এই পরিবর্তন?
ফেসবুকের এই নীতির মূল লক্ষ্য হলো অন্যের তৈরি কনটেন্ট সামান্য পরিবর্তন করে নিজের নামে প্রকাশের প্রবণতা কমানো এবং নির্মাতাদের নিজস্ব সৃজনশীলতা ও মৌলিক কনটেন্ট তৈরিতে উৎসাহিত করা।
এর ফলে যারা নিয়মিত অন্যের ভিডিও রিপোস্ট বা সামান্য এডিট করে প্রকাশ করেন, তাদের জন্য ভবিষ্যতে কনটেন্টের রিচ, পারফরম্যান্স কিংবা আয় সংক্রান্ত বিষয়ে চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
ক্রিয়েটরদের এখন কী করণীয়?
ফেসবুকে দীর্ঘমেয়াদে কনটেন্ট তৈরি করে আয় করতে চাইলে নির্মাতাদের এখন থেকেই অরিজিনাল কনটেন্ট তৈরিতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
নিজের শুট করা ভিডিও, নিজস্ব উপস্থাপনা, তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ, নতুন তথ্য, সাক্ষাৎকার, নিজস্ব গল্প বলার ধরন এবং সৃজনশীল উপস্থাপনার মাধ্যমে দর্শকের জন্য আলাদা মূল্য তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যের কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে শুধু কপি বা সামান্য এডিট না করে তাতে যথেষ্ট মৌলিক অবদান ও নতুনত্ব যোগ করার বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে।
সব মিলিয়ে, ফেসবুকের নতুন নীতিমালা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—শুধু কনটেন্ট প্রকাশ নয়, কনটেন্টে নিজের সৃজনশীলতা ও মৌলিক অবদান থাকাটাই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রিন্ট করুন
ফটো কার্ড
এ জাতীয় আরো খবর..