আজকের তারিখ : | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি সোলায়মান বিশু, সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ পুনর্নির্বাচিত শ্রীপুরে মাদ্রাসায় হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, বিএনপি নেতাসহ ৭৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা নামোনিমগাছিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন ও সচেতনতামূলক অভিযান পাঁচতলা ভবনে বিদ্যুতের কাজ করতে গিয়ে প্রাণ গেল সোহাগের, নবদা হাউজিংয়ে শোকের মাতম ভেকু দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার নেপথ্যে কারা? রাতের অভিযানে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদেশি মদ-সিরাপসহ আটক ৬৪ বছরের ব্যক্তি দেশ অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জে শ্রমিক দলের মিছিল মহানন্দায় গোসলের সময় ডুবে প্রাণ গেল দুই তরুণের চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু ঠেকাতে মশক নিধন ও সচেতনতামূলক অভিযান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ চায় রাশিয়া চাঁদা না দেওয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও লুটপাট চাঁপাইনবাবগঞ্জে সমতাভিত্তিক স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নারীপক্ষের আলোচনা শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় সিরাপ জব্দ, আটক ১ শিবগঞ্জ সীমান্তে ৪ ভারতীয় মোবাইলসহ আটক ১ রাতের অভিযানে শিবগঞ্জ সীমান্ত থেকে ৪৯ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার

৫০ কোটি টাকার স্ট্যাম্পের রহস্যে ফরহাদ হত্যা? নথি, অর্থ ও কমিটির কার্যক্রম ঘিরে নতুন অনুসন্ধান

প্রতিবেদকের তথ্য : দৈনিক জাগ্রত সময়
  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 28, 2026
  • সংবাদটি দেখেছেন: 56
ছবির ক্যাপশন : ৫০ কোটি টাকার স্ট্যাম্পের রহস্যে ফরহাদ হত্যা? নথি, অর্থ ও কমিটির কার্যক্রম ঘিরে নতুন অনুসন্ধান

বিশেষ প্রতিবেদক | দৈনিক জাগ্রত সময় (সারা বাংলাদেশ)

ময়মনসিংহের বাসিন্দা ফরহাদ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ৫০ কোটি টাকার একটি স্ট্যাম্প ও অঙ্গীকারনামা। নিহতের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বক্তব্যে দাবি করা হচ্ছে, একটি কমিটির কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার সময় ফরহাদের কাছে ওই নথি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল। সেই তথ্যের কারণে তিনি কোনো পক্ষের স্বার্থের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিলেন কি না—এখন সেটিই তদন্তের অন্যতম প্রশ্ন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে এখন পর্যন্ত ৫০ কোটি টাকার স্ট্যাম্প এবং ফরহাদ হত্যার মধ্যে সরাসরি যোগসূত্রের বিষয়টি আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে পুরো ঘটনাটি অভিযোগ, নথিপত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা জরুরি।

পুনর্বাসন কমিটি ঘিরে অর্থনৈতিক প্রশ্ন

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, অসহায় ও ভূমিহীন মানুষের পুনর্বাসনের লক্ষ্য নিয়ে একটি উদ্যোগ ও কমিটি গঠিত হয়েছিল। ফরহাদও ওই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

কমিটির কার্যক্রম নিয়ে কয়েকজনের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে সরকারি অনুদান বা সহায়তার অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে বলে তারা দাবি করেন।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত তথ্য প্রকাশ্যে না আসায় বিষয়গুলোকে তদন্তাধীন অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।


৫০ কোটি টাকার নথি কোথায়, কার স্বার্থে?

এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে কথিত ৫০ কোটি টাকার স্ট্যাম্প ও অঙ্গীকারনামা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নথিটির অস্তিত্ব ও ব্যবহার সম্পর্কে তদন্তকারীদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন।

বিশেষ করে—

স্ট্যাম্পটি কখন সম্পাদিত হয়েছিল?
কার নামে বা কার পক্ষে এটি করা হয়েছিল?
৫০ কোটি টাকার অঙ্ক নির্ধারণের ভিত্তি কী?
অর্থের উৎস ও লেনদেনের প্রমাণ কোথায়?
অঙ্গীকারনামাটি কারা স্বাক্ষর করেছিলেন?
ফরহাদের কাছে নথি বা তথ্য কীভাবে আসে?
হত্যাকাণ্ডের আগে এ নিয়ে কারও সঙ্গে তার বিরোধ হয়েছিল কি না?

এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য মোটিভ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

আব্দুর রহিমকে ঘিরে অভিযোগ

পরিবারের পক্ষ থেকে আলহাজ্ব আব্দুর রহিমকে হত্যাকাণ্ডের হুকুমদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকজন ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন।

তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার আগে তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা আইনগতভাবে সমীচীন নয়।

রাজনৈতিক যোগাযোগের দাবিও তদন্তে আসছে


স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, রাজধানীর বিজয় সরণি ও ফার্মগেট এলাকায় আব্দুর রহিমের সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের যোগাযোগ ও বৈঠক হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি ও বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে কথিত আলোচনার দাবিও রয়েছে।

তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে তদন্তকারীদের উচিত প্রত্যক্ষদর্শী, কল রেকর্ড, বৈঠকের নথি, আর্থিক লেনদেন ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করে বিষয়টির সত্যতা নির্ধারণ করা।

লিখিত অভিযোগের পরও কেন তদন্ত হয়নি?

কমিটির কয়েকজন সদস্যের দাবি, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। তাদের প্রশ্ন, অভিযোগগুলো সত্য হলে এতদিনেও কেন কার্যকর তদন্ত হয়নি?

অন্যদিকে অভিযোগগুলো যদি ভিত্তিহীন হয়, তাহলেও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অর্থনৈতিক বিরোধের যোগসূত্র?

ফরহাদের পরিবারের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—৫০ কোটি টাকার স্ট্যাম্প ও অঙ্গীকারনামার তথ্য কি হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণের সঙ্গে যুক্ত?

পরিবারের অভিযোগ, এসব বিষয় সামনে আসার পর ফরহাদকে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তারা হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা, পরিকল্পনাকারী ও সরাসরি জড়িতদের শনাক্ত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য আর্থিক মোটিভ অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, তদন্তে শুধু হত্যার ঘটনাস্থল বা অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদই যথেষ্ট নয়। কথিত ৫০ কোটি টাকার স্ট্যাম্প, অঙ্গীকারনামা, কমিটির নথিপত্র, ব্যাংক ও আর্থিক লেনদেন, অর্থ সংগ্রহের হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগও যাচাই করা প্রয়োজন।


দ্বিতীয় পর্বে আরও তথ্য আসছে

ফরহাদ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কী—এ প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি মেলেনি। ৫০ কোটি টাকার স্ট্যাম্পের অস্তিত্ব, এর আইনগত বৈধতা, অর্থের উৎস এবং নিহতের সঙ্গে এর সম্পর্ক—সবকিছুই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

পরিবার বলছে, তারা কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা নয়; বরং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য ও ন্যায়বিচার চান।

ফরহাদ হত্যাকাণ্ড নিয়ে আমাদের অনুসন্ধানের দ্বিতীয় পর্বে কমিটির কার্যক্রম, কথিত ৫০ কোটি টাকার স্ট্যাম্প ও অঙ্গীকারনামা, অর্থের লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।

প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড
কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী আবেদনকৃত নিউজ পোর্টাল।
আবেদন নং: ০০৬০২০.০০০০২০৭.২০২৬০৮০৮.২  |  ট্রাকিং নং: ১০০
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো ফজলে রাব্বি প্রধান সম্পাদক : সেলিনা আক্তার জারা
© 2026 Dainik Jagroto Somoy. All Rights Reserved.
Technical Support by ZapStudio Network