আজকের তারিখ : | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি সোলায়মান বিশু, সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ পুনর্নির্বাচিত শ্রীপুরে মাদ্রাসায় হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, বিএনপি নেতাসহ ৭৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা নামোনিমগাছিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন ও সচেতনতামূলক অভিযান পাঁচতলা ভবনে বিদ্যুতের কাজ করতে গিয়ে প্রাণ গেল সোহাগের, নবদা হাউজিংয়ে শোকের মাতম ভেকু দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার নেপথ্যে কারা? রাতের অভিযানে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদেশি মদ-সিরাপসহ আটক ৬৪ বছরের ব্যক্তি দেশ অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জে শ্রমিক দলের মিছিল মহানন্দায় গোসলের সময় ডুবে প্রাণ গেল দুই তরুণের চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু ঠেকাতে মশক নিধন ও সচেতনতামূলক অভিযান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ চায় রাশিয়া চাঁদা না দেওয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও লুটপাট চাঁপাইনবাবগঞ্জে সমতাভিত্তিক স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নারীপক্ষের আলোচনা শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় সিরাপ জব্দ, আটক ১ শিবগঞ্জ সীমান্তে ৪ ভারতীয় মোবাইলসহ আটক ১ রাতের অভিযানে শিবগঞ্জ সীমান্ত থেকে ৪৯ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার

আলী টেক বাজারে মাদকের বিস্তার

প্রতিবেদকের তথ্য : দৈনিক জাগ্রত সময়
  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 29, 2026
  • সংবাদটি দেখেছেন: 109
ছবির ক্যাপশন : অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ছবি




৮ নম্বর ওয়ার্ডজুড়ে মাদকের ছড়াছড়ি, ডিবির অভিযানেও ধরাছোঁয়ার বাইরে অভিযুক্তরা

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আলী টেক বাজার ও আশপাশের এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আলী টেক বাজারকে কেন্দ্র করে শুধু একটি এলাকায় নয়, পুরো ৮ নম্বর ওয়ার্ড এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের বেচাকেনা ছড়িয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার চলার কারণে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ মাদকের ঝুঁকিতে পড়ছে বলে দাবি স্থানীয় অভিভাবকদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মাদক ব্যবসার সঙ্গে মো. আনিস বেপারী, মো. রিফাত মিজি ও আলমগীর বেপারীর নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, আনিস বেপারীর নেতৃত্বে রিফাত মিজি ও আলমগীর বেপারী আলী টেক বাজার ও আশপাশের এলাকায় মাদক বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, আনিস বেপারী ও রিফাত মিজির বিরুদ্ধে ইয়াবা এবং আলমগীর বেপারীর বিরুদ্ধে গাঁজা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন।

ডিবির অভিযানেও ধরাছোঁয়ার বাইরে

স্থানীয়দের দাবি, আলী টেক বাজার ও আশপাশের এলাকায় ইতিপূর্বে ডিবি পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হলেও অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের একটি অংশ ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযান চলাকালে তারা কৌশলে আত্মগোপন করে বা ঘটনাস্থল এড়িয়ে যায় এবং পরবর্তীতে আবারও মাদক কারবারে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

এতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চললেও অভিযুক্তরা কীভাবে বারবার ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে? তাদের গতিবিধি সম্পর্কে আগে থেকেই কেউ তথ্য দিচ্ছে কি না, কিংবা তাদের পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা রয়েছে কি না—তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের মতে, শুধু কয়েকজন বিক্রেতাকে আটক করলেই মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মাদকের উৎস, সরবরাহকারী ও নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

আলী টেক বাজার ছাড়িয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিস্তার

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক কারবার এখন আলী টেক বাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থান এবং আশপাশের এলাকাতেও এর প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয়দের দাবি, সন্ধ্যার পর বিভিন্ন স্থানে অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা ও মাদকসেবীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এতে সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

নষ্ট হচ্ছে যুবসমাজ

মাদকের সহজলভ্যতা নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। তাদের দাবি, মাদক সহজে পাওয়া গেলে কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ দ্রুত আসক্ত হয়ে পড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে পরিবার, শিক্ষা ও সামাজিক পরিবেশের ওপর।

একাধিক বাসিন্দা বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত ও কার্যকর না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদেরও মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

নেপথ্যের চক্র শনাক্তের দাবি

আলী টেক বাজারের মাদক কারবার নিয়ে স্থানীয়দের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—নেপথ্যে কারা?

এলাকাবাসীর দাবি, মাদক কোথা থেকে আসছে, কার মাধ্যমে এলাকায় প্রবেশ করছে, কারা সরবরাহ করছে এবং কারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে—এসব বিষয় তদন্ত করে বের করতে হবে।

কোনো ব্যক্তি বা মহল মাদক কারবারে সহযোগিতা কিংবা প্রভাব বিস্তার করে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ চান এলাকাবাসী

আলী টেক বাজার, ৮ নম্বর ওয়ার্ড এবং আশপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং মাদকের মূল সরবরাহব্যবস্থা শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তাদের প্রত্যাশা, মাদক বিক্রির অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইতিপূর্বে ডিবি পুলিশের পরিচালিত অভিযান ও অভিযানের সময় অভিযুক্তরা কীভাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জাগ্রত সময়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে স্থানীয়দের প্রশ্ন—আলী টেক বাজার ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মাদকের বিস্তার নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা কতটা? ইতিপূর্বে পরিচালিত অভিযানের পরও যদি মাদক কারবারের অভিযোগ অব্যাহত থাকে, তাহলে এর নেপথ্যে থাকা চক্রকে শনাক্তে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?

প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড
কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী আবেদনকৃত নিউজ পোর্টাল।
আবেদন নং: ০০৬০২০.০০০০২০৭.২০২৬০৮০৮.২  |  ট্রাকিং নং: ১০০
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো ফজলে রাব্বি প্রধান সম্পাদক : সেলিনা আক্তার জারা
© 2026 Dainik Jagroto Somoy. All Rights Reserved.
Technical Support by ZapStudio Network